Saturday, 22 December 2012

ভুবনভোজন চলছে ("ভুবনভোজন চলছে" ) বইয়ের কবিতা

ভুবনভোজন চলছে

চন্দন ভট্টাচার্য

এক

"না না, রাস দেখতে যাচ্ছি না গ'
শালির বিয়েতে যাচ্ছি
ধান্যসরা শ্বশুরঘর, সেটি জানা নাই কি !
আমার তো বেস্পতিবারের আগে ফিরতি হবে না
বড় জামাই, ছাড়বে ক্যানে?"

বাসের সামনের সিটে জুলপিভরা গর্ব বসে আছে

দুপাশে পুকুরের মেগা-সিরিয়ালে বৃষ্টির সিঙাড়া ফুটিফুটি --- দেখে
গাছগুলো পালক-কলম, মাটিতে মুখ গুঁজে সাহী খুঁজছে রে !
তার মধ্যে মাঠের উঠোনে রঙিন
নতুন
উপুড়
নৌকোচোখ
ওকে কেউ স্রোতে সম্প্রদান ক'রে আসবে না ?


দুই

বাস আজ শহরে ঢুকবে না
টাটকা রাস লেগে গেছে
"বসে থাকো, বাড়ি বাড়ি নামিয়ে আসবেখ'ন"
ওমা কী হাসির কথা, কিন্তু ছোটোভাই কেঁদে যাচ্ছে
সিটে বসবে, কোলে টানলে মাথা ফাটাফাটি !
ভিড় ঝাঁকুনির মাঝখানে অচেনা বুকের স্তন
পিঠ ঘ'ষটে নেমে গেলে
বাচ্চাগুলো কার, সামলাও --- কন্ডাকটার চেঁচাল
"সে কী, পেছনে ওয়ান টু লেখা নেই ! তিন নম্বরটা আমাদের"

বাসের পেছনের সিটে ইয়ারকি বসেছে হেসে কুটিকুটি বউ নিয়ে


তিন

রঙিন মুকুর পোঁতা মাটিতে

ধুলো-ময়দান। তাতে একটা সিদ্ধিবট মানে
গোটা গ্রামের রাখালি
গেঁয়ো নদীটাকে নায়িকা নামিয়ে পুরো মাঠচাষের সিনেমা

জন্ম জন্ম ধ'রে প্রেমজল সেবা-হাত নিয়ে খেলা ক'রে তারপর
বটের একটা ডাল ভাঙতেই ভেদবমি হল
ধু ধু একা মন্দিরচুড়ো টুসকি দিলে ছুটে এল
ধুতি-শাড়ির হাসিমুখ শকহূণদল....

মাটির ওপর ওমনি উঠে বসেছে আরশি, তাতে রোদ লেগে
সর্বত্র দেয়ালা


চার

তুমি বৃক্ষ, এখন কলপ মেখে শিশুগাছ
টাটকা বসন্ত হ'লে চুড়োখানা
সরবতিলেবুরঙ লেডিসের ছাতা
সামনের দু'পা ভাঁজ ক'রে ব'সে
হাতিশুঁড় বটগাছ দিবাকর পিঠে তুলেছ

নিচে ধুলোঝাঁট পেতে আমাদের একটা নিকোনো পুজো
কপালের জল, চোখের ঘর্মাক্ত দিয়ে তরিজুত করা।
ছোট বারকোশে কাটা পড়ছে ফল,
তার পেছনে উদ্দাম থালায় আলুকুমড়ো ডুমো ডুমো
সে-পশ্চাৎ ডেগ হাঁড়ি
কবেকার আড়য়াল খাঁয়ে লগি ঠেলছ, গুরুভাই


পাঁচ

বাংলার সব উজাড় মন্দিরের মতো তোমারও বিগ্রহ চুরি গেছে
কোন পাথর-ঠান্ডা টুঙ্গিতে বসে আছেন কষ্টিপাথর !
নিত্যসেবা বন্ধ। আর নববস্ত্র পরিধান?
স্নানই হচ্ছে না তার নববস্তর ! রাত পর্যন্ত ড্রয়িংরুমে আলো, মদের হুল্লোড়ে

কী ক'রে শোকেসের মধ্যে শয়নে যান নেতাই?

বাংলার সব শ্রীপাটের মধ্যে আমরা তবু জাগিয়েছি মহাভাব
ষোলো বছরের ভদ্রাণীর লালপাড় সাদা শাড়িতে
চার ঘন্টা কীর্তননের দম জাগিয়ে রেখেছি
আর ভিখারিকে জড়িয়ে ধ'রে সে কী কান্না, কী ক্ষমাপ্রার্থনা
পথের বৈষ্ণবী --- তার তিলকমাটি কপালে নিয়েই ওমনি ঢিপিস ক'রে....

বিগ্রহ করেছি প্রতি মুখ


ছয়

সে মঠ গৌড়ীয়। লঙ্গরখানা খুলে
খোলে-করতালে দু'তিন দফা শান দেয়
চবুতরায় ব'সে শুয়ে আধা বেশ্যা, আধা বৈষ্ণবী
(পাগলও আছে, বলতে হবে কৃষ্ণপাগল)
তবু পেচ্ছাপখানাটি শান্ত, জোড়া তুলসি জোড়া তুলসি
বুনো তুলসির বনে
একটা হা-হতোস্মি বকুল, মরেও মরছে না তেঁই ফুলসন্তানপাত


সাত

আমি যে জীবন --- তা-ই করজোড় পাওয়ার যোগ্যতা
আমি যে পিপাসি, ওগো, সে-ই ব্রহ্মধূপ !
কোঁচড়ভর্তি পড়ল ফুলরেণু এই ঝুরো চিঁড়ে ভারিক্কি মুড়কি
তিনটে আখড়া না ঘুরতেই আমি পোয়াতি আটমাস
ধুলোআসন ক'রে বসলে? তবে মাথা বাঁচাও মাথা বাঁচাও
দুধবর্ষা হবে
মুড়িচুড়ায়

আমরা যারা চেয়েচিন্তে উপবাস
আসি আর সামদাম পেট নিয়ে ঘুম বটতলে ।
উঠে ফের জ্যামিতি-স্কেলের মতো, স্কুলের পিটির মতো.....

ভুবনভোজন চলছে


আট

আহা, কোন ছোটকালে মা গেছে?
আহা, তাই বয়স্ক দেখলেই মা মা করে বুকের মঝধার ?

আমার ছেলেটি বড় ভালো, জানো?
মিলেমিশে থাকি, বৌয়ের চুলে তেল মাখিয়ে
সেই হাত মাথায় মুছে ঘাটে চলে যাই
ওই ওনার পাঁচটি, কেউ ভাত দিতে অরাজি

আহা, কোনও কান সোনা পায় না
আবার কোনও সোনা কান ....


নয়

শাল পাতায় ডাবু হাতায় খিচুড়ি ঢাললাম
কিছু মাটি খাচ্ছে, কিছু তুমি
পেছনে কুকুর (দেখো, তার ওপরে ব'সো না)
পেছনের উঁচুনিচু ভুঁয়ে সনাক্ত হলুদ পায়খানা
থোড়া-সা অরণ্যমতো, পুকুরের সৌপ্রাচীন ঘাট
জয় রাধে --- সক্কল এঁটো হাত জলতরঙ্গ দিল
এক-ক্যামেরা ছবি ওঠে মাড়-শনশন রুমালে ঠোঁটমোছা

ছবি হয় বিড়ি মুখে প্রধান সূপকার


দশ

এই যে অভুক্ত আমি, দ্বিপ্রহর ঢ'লে গেলে তবুও যে আহার্য পেলাম, এবং যে-সে দানাপানি নয়, অন্তিম ভোগান্নটি, আর সেই নিবেদন পরম চৈতন্যসখা অদ্বৈতাচার্যের , আমার এ-সৌভাগ্য আমি কল্পনায়ও আনতে কুন্ঠিত। কেন না, কতদূর থেকে ভোরে বাসি মুখে ঘর ছেড়ে তিন বার বাস পালটিয়ে এবং এ-হেন মন্দিরে সকাল সকাল না এলে না পূর্বভাগে ব'লে রাখলে সংস্থান থাকে না, শ্রীমৎ অদ্বৈতের পরম মহিমা-বলে পূজারী অন্নাহার থাকলেও দেবেন না সকলকে, তদুপরি হা-প্রত্যাশায় বেলা যায়, কেননা প্রসাদ শেষ না হলে তিনি সেবায় বসতে পারছেন কই?

এভাবে ভাঙা দেউলের মেঝেয় আমি থেবড়ে বসি, রেওয়াজটি বৃন্দাবনসম। এই নবদ্বীপের প্রতি ধূলিকণায় তিনি রয়েছেন মহাপ্রভু, কোন ধুলো সরিয়ে তুমি আসন পাততে চাও রে পাগল ! বেরঙা দেওয়ালের জীর্ণতার মধ্যে চোখ থাকলে আমি তদরূপ দেখতে পাবো, দলা দলা আতপ ভাতের গোগ্রাস পাবো কলাপাতায় চল্লিশ টাকার কুশলতা। দুই কুমড়োভাজা-কালোর ডান দিকে বসেছেন শীর্ণ লম্বা নাকটি-ছাড়া-কিছু-নেই সে-ব্রাহ্মণ, বাঁয়ে এয়োস্ত্রী যেন ভাতের মধ্যে তুলোসিপাতাগুচ্ছ --- খাও বাবা ওইটিই তো আসল পেসসাদ। কলকল ডাল বইলো, অদ্বৈতের মুলোছেঁচকি তেঁতুলের চাটনি ঘি-পায়েস পুরুত ঠাকুরের ভুঁড়ির অনেক নিচে গরদের ফাঁস সব কলাপাতায় মুড়ে যেই.... দেয়ালের আড়ালে দেখি মাগনা বড় হাজরি নিচ্ছেন জয় 

আমার রোগা রিকশাওলা ভাইয়ের জয়!

এগারো

সন্ধে হল। পাথর এখনও তপ্ত। ঠাকুর, নেবো কি?
সকলেই সংগ্রহে এসেছে।

আমি ভুলিতে পারি না সেই ব্রহ্মময়ী রাই ...


বারো

গাছে ফুল নেই, ফুল তুলিবেন না। ইহা গৌড়ের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন মুসলমান কীর্তি। বারোটি দ্বারপথ, এই ধারণায় সম্ভবত নাম বারোদুয়ারি। রাধারাণী বলছেন, ও-গোবিন্দ, বলো তো মানুষ এত কষ্ট করে কেন? এই যে চতুর্লক্ষ ভিড়, এখানে পায়খানা, এখানেই চুল আঁচড়ানো। ইহা সুলতান নসরত শাহের অমর স্থাপন। বাচ্চাগুলোর মুখে ডুমো মাছি বসছে, তুমি এখানে থেকো না। আমার হৃদয়মাঝে বিচিত্র পালঙ্ক আছে, আশেপাশে রসের বালিশ। এবার খোল উঠে দাঁড়াল, দক্ষিণপূর্ব ভাগেও দুলছে একটি অক্ষয় পীঠ, সম্ভবত ইহা মুয়াজ্জিম নমাজের সময় ব্যবহার করিতেন। সেই মাঠে অজস্র বৈষ্ণব প্লাস্টিক পেতে আম খায়। আর মা নন্দরানী, তিনি? তিনি আজ গোপালের আরতি করবেন। হ্যালো চেক। আমাদের মায়েরা বাবারা ভায়েরা বোনেরা .....বাউন্ডারিতে পেচ্ছাপ উবু হলে আমিও উলুধ্বনি ---- চায়ের প্যাকেট, ব্যাটফেদার, কানের মাকড়ি, টাইটানিক দশ টাকা দশ টাকা দশ টাকা। এইমাত্র একজন ভক্ত একশোর একটি নোট দিলেন ; তাহাতে শুইবা তুমি, চরণ চাপিব আমি, ঘুচে যাবে মনের আলিস। আমি কাউকে কষ্ট করতে বলিনি গো রাধা। আপন সহজে মিলে। ধন্যবাদ।

পর কভু মিলে না।


তেরো

রোগা কুব্জ ধুতি-চাদর-উড়নির ত্রিলাল কাপালিক
মাথায় চাঁদের রিপেয়ার-করা খিলান নিয়ে ঘাসমাঠ পার হয়ে গেল

তাবিজ-মোড়া কচি বটপাতা, সোনালি কাঁটা কাঁটায়
জাগ্রত ক'রে দিচ্ছে এ-শরীর অষ্টধাতুর। তাছাড়া খোল সারাই, খোল বিক্কিরি।

শিতলপাটি মাসির কাছে বড় হাই ছোট আব্বুলিশগুলো
গুটিয়ে থিয়ে করা দেখে বলছি ---
মেলার শেষ রাতটুকু ওই কোলে মাথা দিয়ে....?

"ঘুমায়ো"

Friday, 21 December 2012

শেষ ওভার ("জাতকের কবিতা" বইয়ের কবিতা)


শেষ ওভার

চন্দন ভট্টাচার্য

আমি বলেছি, এই যে শোনো
একটা মাথা-ঠান্ডা প্রশ্ন করি
যদি কেউ স্কুলেই যায় সকাল সকাল, দোষের মধ্যে শুধু
তোমাকে-তাকিয়ে একদৃষ্টে পথ হাঁটে
তবে সেই কুচকাওয়াজকে "ভীষণ পছন্দ" বলা যাবে?

ধরো, একদিন তুমি অন্ধকার; জলকাদায় ডুবে
বাড়ি ফিরছ আর লুকিয়ে কেউ টর্চ দেখাচ্ছে উঠোন পর্যন্ত ধন্যবাদ,
তবে তার ঘটনাকে "মানসিক দুর্বলতা" নাম দেওয়া যায়?

আমি বলেছি, শোনোই না
তুমি আচমকা রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে; সেই যে "কেউ",
তার দাদা এসে পিঠে ধাপ্পা দিচ্ছে, বলছে
রেজাল্ট খারাপ হয়েছে তো কী?
ব্যাঙ্কের ক্লার্কশিপ তুই আরামসে পেয়ে যাবি জানি,
আমি স--ব জানি.....
তবে তুমি শেষ ওভারে মাত্র একটা রান বাকি-তে ভয় পাবে ?
তখনও কী ভাববে গো, ভেবে মুছে ফেলবে
কপালে সদ্য ওঠা তৃতীয় নয়ন !
আমি তোমাকে এই অর্থহীন প্রয়োজনীয় কান্নামাখা প্রশ্নখানা করি

Thursday, 20 December 2012

সব জলপ্রপাতের মধ্যে তুমিই মহৎঃ এক ("জাতকের কবিতা")

সব জলপ্রপাতের মধ্যে তুমিই মহৎ

এক
তিলের নাড়ুর মতো

তিলের নাড়ুর মতো দুহাতের পাকে
মা কেবল ছোটো হয়ে আসে
দুর্দান্ত করবীগাছ
বীজের ভেতরে সেও লুকিয়ে যায় কোমর অবধি
তাকে মশারি টাঙিয়ে, তাকে ধামাচাপা দিয়ে
আমিই দুহাত তাস খেলতে বসেছি
বেলা শেষ, খেতে বসেছি কাঠটগর শিউলিবাটা দিয়ে
প্রতি গরাসের সাথে ওই হাত হয়ে উঠছে হাতপাখা
ওই গ্রীবা গতজন্মে গলায়-দড়ি মেয়ের মতো
                                    লম্বা রাজহাঁস
মা উড়বেই....
আর আমি তক্ষুণি ঝাঁপিয়েছি বুকের ওপর
ও মা চোখ খোলো, কেন মাগো কথা বলছো না 

দুই যমজ তিন যমজ ("জাতকের কবিতা" বইয়ের কবিতা)

দুই যমজ তিন যমজ

চন্দন ভট্টাচার্য

লাল গেঞ্জির কাছে রেখে গেলাম আমার ঠিকানা

চেকারের বুক ঘেঁষে বেরিয়ে যাওয়া বিনা-টিকিট
আর ট্রেকারের গায়ে চড় মেরে "আর একজন ...
মদনপুর আর একজন"
সেই চিৎকার কাত হয়ে বাওড়ের মাঝখানে উলটে পড়েছে, আর সকালে 
ভেসে ওঠা স্বামীমাছ কন্যামাছের গায়ে
লিখে দিলাম আমার ঠিকানা

যে-ছেলেরা কাশের গুচ্ছ বেঁধেছিল চায়ের দোকানে
তোমাদের রেখে গেলাম
যে-মেয়েরা ফিস ফিস কালো জলে ভরা
তোমাদের হাতে।
মুন্ডু-মুন্ডু সব মাথা এই নিহত এগারো আর আহত উনিশে ধরা আছে
নিহত সবার জন্যে চা আসছে, আহত কলকব্জাগুলো
খ'সে খ'সে গিয়ে লেগেছে
মুরগির দু'হাত দু'পায়

পোষাক-ছাড়ানো মুরগিরা --- তোমরা আমার গর্ভজাত;
মরা পিকনিক থেকে তোমাদের জন্মগুলো ফেরত এসেছে
এবং উড়েও যাচ্ছে আমার দুই যমজ তিন যমজ সুসন্তান....
ওড়ার দুপাশে নিরুদ্দেশ,
ওড়ার পায়ের হাড়ে যে গুমশুদা পাহাড় জন্মায়
তার ডানা থেকে মুছে দিলাম আমার ঠিকানা

Tuesday, 18 December 2012

রেজারেকশন ("তিনটি ডানার পাখি" বইয়ের উন্মেষ কবিতা)

রেজারেকশন

চন্দন ভট্টাচার্য

আমি যখন ফিরে এসেছি
ফিরে এসো আকাশের সব অন্তর্গত !
"অপদার্থ" খেতাব পাওয়া শৈশব ঘুরে এসো
আর, তুমি রোদ, থেকে যাও, সূর্য যদি বা বাড়ি ফেরে
একটা রাত ঘুমোও, দোস্ত, যে প্রিয় সুপুরিগাছে
তোমার বঊনি হয় রোজ

তোমাকেও বলিহারি, এই সেদিন ভূমিষ্ঠ হয়ে
ওই অতোটা উতরে যাওয়া ছায়াগাছ
নেমে এসো সমান- সমান
হুড়োনাড়া চুল ধ'রে তোমাকে জোর কা
ঝটকা দিয়ে দিই

আমার তো আশাই ছিল না
তবু যখন চালু হল শরীরের সমস্ত নর্দমা
তার ভেতরে আবার কায়দা করে এগিয়ে চলল ময়লা জল
তখন পাকানো রুটির মধ্যে চিনি এসে থামো
ভাতের থালায় লাফ দিয়ে উঠে এসো
ও মেয়ে-বেড়াল